আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার জনবহুল এলাকা ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্টেশনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। মেট্রোরেলের পিলার থেকে খুলে পড়া বিয়ারিং প্যাডের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়
বিস্তারিত….
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোরেলে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে। এ কারণে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। এ ঘটনায় বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় নিহতের নাম আবুল কালাম (৩৬)। তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ইশ্বরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পরপরই ফার্মগেট স্টেশনের কাছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফয়জুল কবির খান। তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া, পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএমটিসিএল) চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপদেষ্টা ফয়জুল কবির বলেন, “কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নাকি এটি কোনো নাশকতা ছিল, তা কমিটি তদন্ত করবে।” তিনি আরও জানান, উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হতে আরও সময় লাগবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকেল ৩টার দিকে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল শুরু হয়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), ডিএমটিসিএল এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মেট্রোরেল নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বেয়ারিং প্যাডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের রক্ষণাবেক্ষণ আরও কঠোরভাবে করা প্রয়োজন।

প্রতিদিনের সকল খবরাখবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন আজকাল বাংলায়

aajkal bangla